নতুন এসএসসি খাতা চ্যালেঞ্জ আবেদন করার নিয়ম বাংলা
পেজ সূচিপত্র: নতুন এসএসসি খাতা চ্যালেঞ্জ আবেদন করার নিয়ম বাংলা
আবেদনের লিংক কোথায় পাবেন
বোর্ড চ্যালেঞ্জের লিংকটা পেতে হলে গুগলে গিয়ে সার্চ করবেন এসএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে লিংকটি পেয়ে যাবেন আর রেজাল্ট অ্যাপস প্লে স্টোরে গিয়ে ইনস্টল দিতে হবে। এরপর অ্যাপে এসে এসএসসি ফল পুনরীক্ষণ অপশনে ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার সাথে সাথে ফল পুনরীক্ষণ বাটন পাওয়া যাবে। সেখানে ক্লিক করে আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করতে হবে। শতভাগ পর্যন্ত আবেদন চলবে। সেখান থেকে আবেদন করা যাবে। এখানে বোর্ডের নাম রোল রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেখা যাবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
শিক্ষার্থী তালিকায় প্রথমে বোর্ডের নাম সিলেক্ট করতে হবে। এরপর রোল নাম্বার লিখতে হবে। এরপর রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লিখতে হবে। বাকি সব তথ্য ঠিক থাকবে। এরপর অন্য কোনো কাজ নাই। তারপর জমাদিন বাটনে ক্লিক করতে হবে।
জমাদিন বাটনে ক্লিক করার সাথে সাথে সামনে ইনফরমেশনগুলো দেখাবে। নাম রোল রেজিস্ট্রেশন নাম্বার বোর্ডের নাম সবকিছু দেখাবে। কোন সাবজেক্টে এপ্লাই করা হয়েছে কিনা সেই তথ্যও দেখাবে। যদি ডাইরেক্টলি ঢোকা হয় তাহলে সব জিরোই থাকবে।
এরপর মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। একই মোবাইল নাম্বার দুইবার দিতে হবে। এই নাম্বারে এসএমএসের মাধ্যমে কনফার্ম করা হবে। পুনরীক্ষণের ফলাফলও এই নাম্বারে পাঠানো হবে। তাই সঠিক নাম্বার দিতে হবে যাতে রেজাল্ট দিলে এসএমএসে রেজাল্ট দেখা যায়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নাম্বার না দিলে জমাদিন বাটনে যাওয়া যাবে না। সঠিক নাম্বার দিয়ে জমাদিন বাটনে ক্লিক করতে হবে।
নেক্সট ধাপে কোন কোন বিষয়ে কত নম্বর পাওয়া গেছে তা মার্ক আকারে দেখাবে। গ্রেডও দেখাবে। বিষয় ধরে ধরে মার্ক এবং গ্রেড দেখাবে। এভাবে ওভারঅল রেজাল্ট এখানে পাওয়া যাবে।
বিষয় নির্বাচন এবং ফি
রেজাল্ট পাওয়ার পর নির্বাচন করুন বাটন পাওয়া যাবে। এই নির্বাচন করুন বাটনে এপ্লাই করতে হবে। প্রথমে কোনো তথ্যে কোনো বিষয় চয়েস করা থাকবে না। কোনো টাকা দেওয়াও থাকবে না। টাকার পরিমাণও দেখাবে না।
নেক্সট স্টেপে গিয়ে যে যে সাবজেক্টে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে সেই সেই সাবজেক্ট চয়েস করতে হবে। নির্বাচন করুন বাটনে ক্লিক করলে যে যে সাবজেক্ট ক্লিক করা হবে সেটা সেটা নির্বাচিত অপশনে চলে যাবে। নির্বাচিত বিষয়ে গিয়ে কোডগুলো দেখা যাবে। যেমন বাংলা আইসিটি দেখা যাবে।
টাকার পরিমাণ হচ্ছে প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা। বাংলা প্রথম এবং দ্বিতীয় পত্রের জন্য ১৫০ করে ৩০০ টাকা। আইসিটির জন্য আরও ১৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ৪৫০ টাকা মোট পরিশোধযোগ্য দেখাবে। যত বিষয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে চাওয়া হবে সবই করা যায় আবার কমও করা যায়। যেটা যেটা দরকার সেটা করে ফি প্রদান করুন বাটনে ক্লিক করতে হবে।
ফি প্রদান করুন বাটনে ক্লিক করার পর মোট পরিশোধযোগ্য ফি দেখাবে। এরপর জমাদিন বাটনে ক্লিক করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত টাকা পরিশোধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সাবজেক্ট চয়েস করা যাবে। সাবজেক্ট ডিলিট করা যাবে। নতুন সাবজেক্ট দেওয়া যাবে। কিন্তু একবার টাকা পরিশোধ করে ফেললে আর নতুন সাবজেক্ট আবেদন করা যাবে না বোর্ড চ্যালেঞ্জের জন্য। তাই টাকা পয়সার প্রয়োজন হলে দেরি করে আবেদন করা যেতে পারে। দুই দিন পরে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা গেলেও বুঝেশুনে করতে হবে। পরে আফসোস করলে হবে না। এই নিয়মগুলো বোর্ডের নিয়মেই বলা আছে।
পেমেন্ট প্রক্রিয়া
এরপর স্টুডেন্টের সব তথ্য আবার দেখাবে। এরপর আবার জমাদিন বাটন আসবে। জমাদিন বাটনে ক্লিক করলে সামনে বিকাশ অপশন আসবে। বিকাশ বা নগদ থেকে টাকা দেওয়া যাবে। বিকাশে গিয়ে এডুকেশন ফি অপশনে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে এসএসসি ২০২৬ বোর্ড চ্যালেঞ্জের নাম লিখে সার্চ করতে হবে। তাহলে সব ইনফরমেশন দেখাবে। শুধুমাত্র বোর্ডের নাম সিলেক্ট করতে হবে এবং রোল নাম্বার দিতে হবে।
শুধু বোর্ডের নাম আর রোল নাম্বার দিলে অটোমেটিক্যালি সব তথ্য দেখাবে। নাম কী এবং কত টাকা বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফি হয়েছে সেগুলো দেখাবে। এগুলো দেখানোর মানে হচ্ছে তথ্য সঠিক আছে। এরপর পাসওয়ার্ড দিতে হবে। পাসওয়ার্ড দিয়ে চাপ দিতে হবে। এরপর কনফার্মেশন চলে আসবে এবং একটা রিসিপ্ট দেবে। এই রিসিপ্টটা অবশ্যই ডাউনলোড করে রাখতে হবে।
কাদের বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা উচিত
আবেদন শুরু হচ্ছে নির্দিষ্ট তারিখ থেকে নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। আগে আবেদন ছিল এসএমএসের মাধ্যমে। এখন আর এসএমএস নাই। এখন অনলাইনে ঢুকে আবেদন করতে হবে। এটা আগের চেয়ে অনেক সহজ। ঢুকে ক্লিক করে আবেদন করে ফেলা যায়।
সবাই আবেদন করতে পারবে এবং সকল বিষয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা যাবে। শুধুমাত্র দুইটা বিষয় বাদে। সেটা হচ্ছে শারীরিক শিক্ষা এবং ঐচ্ছিক বিষয়গুলো। কারণ ওইসব বিষয়ে খাতা নাই। যেসব বিষয়ে খাতা নাই এবং এমসিকিউ নাই সেগুলোতে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা যায় না।
বোর্ড চ্যালেঞ্জে নাম্বার কমে কিনা
এটা অনেকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ধরা যাক কেউ ম্যাথে ৭৮ পেয়েছে। দুই মার্কের কারণে একটা লেটার কম হচ্ছে। এই কারণে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হলো। এখন ধরা যাক কেউ ৮১ পেয়েছে। তাহলে কি নাম্বার কমে যাবে ৮১ থেকে? খাতা দেখার পর যদি নাম্বার কমে যায়, যেমন তিন মার্ক কম আসে, তাহলে কী হবে? সেক্ষেত্রেও নাম্বার কমায় দেওয়া হবে না। তখন যে নাম্বার আগে পাওয়া গিয়েছিল সেই নাম্বারই থাকবে। মূল বিষয়টা হচ্ছে নাম্বার বাড়তে পারে অথবা যা আছে তাই থাকবে। নাম্বার কমার কোনো সম্ভাবনা নাই।
কারা আবেদন করবে
বোর্ড চ্যালেঞ্জ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কনফিউশন থাকে কারণ অনেকের মোরাল ডাউন হয়ে যায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে যে কী হবে না হবে।
প্রথম যারা আবেদন করবে তারা হলো যারা ফেল করেছে। যে সাবজেক্টে ফেল এসেছে সেই সাবজেক্টে আবেদন করা উচিত। চুপচাপ বাসায় বসে থাকলে শুধু টাকা এবং মোবাইল ব্যালেন্স খরচ হয়ে যাবে। কিন্তু বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে ফেল থেকে পাস আসতে পারে এবং একটা বছর বেঁচে যেতে পারে। আবার যদি পাস নাও আসে তাহলেও অন্তত এই কনফিউশন ক্লিয়ার হয়ে যাবে যে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কী হতো। এই বছর খাতা দেখা হবে একদম ভিন্ন উপায়ে। তাই বোর্ড চ্যালেঞ্জের পরামর্শ সবার জন্যই থাকবে।

আনিক ট্রেন্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url