নতুন ব্লগে গুগল থেকে ভিজিটর আনার ১৫ টি উপায়
নতুন ব্লগে গুগল থেকে ভিজিটর আনার ১৫টি উপায়
একটা নতুন ব্লগ তৈরি করার পর সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো গুগল থেকে ভিজিটর না আসা। নতুন ওয়েবসাইটের পোস্ট সহজে ইন্ডেক্স হতে চায় না, আবার র্যাংক করতেও সময় লাগে। অনেকেই মনে করেন, হয়তো কোনো একটা ট্রিক ব্যবহার করলেই রাতারাতি প্রচুর ট্রাফিক চলে আসবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা এমন নয়।
তবে কিছু নিয়ম মেনে ধৈর্য ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে ধীরে ধীরে গুগল থেকে ভিজিটর আসা শুরু করতে পারে। নিচে বাস্তব উদাহরণসহ নতুন ব্লগে গুগল থেকে ভিজিটর আনার ১৫টি উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সূচিপত্র
- ধৈর্য ধরে কাজ করা
- কিওয়ার্ড রিসার্চকে গুরুত্ব দেওয়া
- কম কম্পিটিশনের কিওয়ার্ড খুঁজে বের করা
- কম্পিটিটর রিসার্চ করা
- কন্টেন্ট কোয়ালিটির দিকে নজর দেওয়া
- একটা নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করা
- কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট স্বাভাবিক রাখা
- পোস্ট ইউজারের জন্য লেখা
- গুগল সার্চ কনসোলকে গুরুত্ব দেওয়া
- কন্টিনিউ পোস্ট করতে থাকা
- পুরনো বিষয় নিয়ে না লিখে নতুন তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা
- ডোমেইন এবং হোস্টিং সঠিকভাবে বোঝা এবং ব্যবহার করা
- অন পেজ এসইও ভালোভাবে করা
- অফ পেজ এসইও করে ওয়েবসাইটকে সবার কাছে পরিচিত করা
- হোয়াইট হ্যাট পদ্ধতি মেনে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা নিয়ে কাজ করা
- শেষ কথা
১। ধৈর্য ধরে কাজ করা
SEO কোনো ম্যাজিক নয় যে সবকিছু একদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। একেবারে শুরুতেই একটা নতুন ওয়েবসাইটে অনেক ট্রাফিক চলে আসবে এমন আশা করা ঠিক নয়।
একটা নতুন ডোমেইন নিয়ে কাজ শুরু করার সময় সেখানে সাধারণত কোনো ব্যাকলিংক থাকে না এবং পোস্টের সংখ্যাও খুব বেশি থাকে না। এই অবস্থায় হঠাৎ করে অনেক ভিজিটর আসবে, এমনটা আশা করলে হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বিষয়টা অনেকটা নতুন দোকান খোলার মতো। দোকান খুলেই যেমন অনেক কাস্টমার পাওয়া যায় না, তেমনি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করলেই সঙ্গে সঙ্গে অনেক ভিজিটর পাওয়া যায় না। সময় দিয়ে ধীরে ধীরে কাজ করতে থাকলে একটা সময় ওয়েবসাইট ভালো অবস্থানে যেতে পারে।
২। কিওয়ার্ড রিসার্চকে গুরুত্ব দেওয়া
নতুন একটা ওয়েবসাইটের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিওয়ার্ড রিসার্চ যত ভালো হবে, পোস্ট র্যাংক হওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়তে পারে।
কিওয়ার্ড রিসার্চ বলতে শুধু একটা শব্দ নির্বাচন করাকে বোঝায় না। একই বিষয়ের মধ্যে আরও কতগুলো ভিন্ন কিওয়ার্ড এবং তার ভেরিয়েশন রয়েছে, সেগুলোও খুঁজে বের করতে হয়।
একটা বিষয় নিয়ে লেখার আগে সেই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত তিন-চারটা আলাদা কিওয়ার্ড খুঁজে বের করে সেগুলোর অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা যেতে পারে। এতে বোঝা যায় কোন কিওয়ার্ডে তুলনামূলকভাবে সহজে র্যাংক করা সম্ভব।
৩। কম কম্পিটিশনের কিওয়ার্ড খুঁজে বের করা
কিওয়ার্ড রিসার্চ করার সময় এমন কিওয়ার্ড খুঁজে বের করা ভালো, যেগুলোতে কম কম্পিটিশন রয়েছে বা খুব বেশি ওয়েবসাইট এখনো কাজ করেনি।
এর একটা বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। একটি গেম রিলিজ নিয়ে তিনটি আলাদা কিওয়ার্ড টাইটেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি কিওয়ার্ডে দ্বিতীয় পজিশনে পোস্ট চলে গিয়েছিল। আরেকটি ভেরিয়েশনেও দ্বিতীয় পজিশনে ছিল।
কিন্তু রিলিজ ডেট নিয়ে যে আলাদা কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি সরাসরি টাইটেল ম্যাচ করে সার্চ করার পর দেখা যায় মাত্র দুইটি রেজাল্ট এসেছে। এর মধ্যে একটি ছিল নিজের ওয়েবসাইট।
ফলে পোস্টটি সরাসরি টপ পজিশনে চলে যায়। টপ পজিশনে থাকার কারণে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই একটি পোস্ট থেকেই প্রায় ৩০টি ক্লিক চলে আসে। অথচ পুরো ওয়েবসাইটের ২৮ দিনের মোট ক্লিক ছিল প্রায় ২৪টি।
এই উদাহরণ থেকেই বোঝা যায়, কম ভিড় থাকা কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করলে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য র্যাংক করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।
৪। কম্পিটিটর রিসার্চ করা
শুধু কিওয়ার্ড রিসার্চ করলেই হবে না। পাশাপাশি কম্পিটিটর রিসার্চও করতে হবে। এই রিসার্চ যত ভালোভাবে করা যাবে, পোস্ট র্যাংক করার সম্ভাবনাও তত বাড়তে পারে।
কোনো একটা টাইটেল বা কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ শুরু করার আগে সেই কিওয়ার্ডে গুগলে আগে থেকেই কতগুলো ওয়েবসাইট কাজ করেছে, সেটা দেখে নেওয়া দরকার।
যদি দেখা যায় একই টাইটেলে অনেক ওয়েবসাইট আগে থেকেই কনটেন্ট দিয়ে রেখেছে, তাহলে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য সেখানে জায়গা করে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে যদি দেখা যায় ওই টাইটেলে খুব কম ওয়েবসাইট কাজ করেছে, তাহলে সেখানে র্যাংক করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৫। কন্টেন্ট কোয়ালিটির দিকে নজর দেওয়া
যে বিষয়ে লেখা হচ্ছে, সেই বিষয়ে যেসব কম্পিটিটর রয়েছে তাদের পোস্ট আগে বিশ্লেষণ করা উচিত। কম্পিটিটরের সাইট বিশ্লেষণ করার পর পোস্ট লেখা শুরু করলে বিষয়টা আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।
ইংরেজি ভালো না জানলেও বাংলায় লিখে পরে ট্রান্সলেট করে বা রিরাইট করে পোস্ট করা যায়। এভাবেও র্যাংকিং পাওয়া সম্ভব। কোনো গ্রামার ভুল থাকলেও যদি সেই নির্দিষ্ট তথ্য আগে কেউ না লিখে থাকে, তাহলে মানুষ মূলত তথ্যটা জানার জন্যই পোস্টে আসে।
কেউ যখন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজতে আসে এবং সেই তথ্য পেয়ে যায়, তখন তার কাছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সে সবসময় গ্রামারের ভুল খুঁজতে আসে না।
তবে সার্চ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে রিডেবিলিটি খারাপ হলে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু ট্রাফিক ভালোভাবে আসতে থাকলে গুগল সহজেই র্যাংকিং কেড়ে নেয় না।
৬। একটা নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করা
ওয়েবসাইটে এলোপাথাড়িভাবে সব ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করা ঠিক নয়। কেউ যদি নিউজ নিয়ে কাজ করে, তাহলে পুরো ওয়েবসাইটটা নিউজ নিয়ে সাজানো উচিত। গেম নিয়ে কাজ করলে গেমের ওপরেই ফোকাস করা উচিত। হেলথ নিয়ে কাজ করলে পুরো ওয়েবসাইট হেলথের ওপর রাখা উচিত।
একইভাবে কোনো প্রোডাক্ট রিলেটেড কাজ করতে চাইলে সেটাও পুরোপুরি প্রোডাক্ট রিলেটেড রাখা যেতে পারে।
এর ফলে একজন ইউজার একটা পোস্ট দেখার পাশাপাশি একই বিষয়ের আরেকটা পোস্টও দেখতে পারে। এতে ওয়েবসাইটে থাকার সময়ও বেড়ে যেতে পারে, যাকে বলা হয় ডিউরেশন টাইম।
ডিউরেশন টাইম বেশি হলে গুগল বুঝতে পারে যে ওয়েবসাইটটি ইউজারের কাজে লাগছে। এর ফলে র্যাংক পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
৭। কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট স্বাভাবিক রাখা
কিওয়ার্ড রিসার্চ করার পর কিওয়ার্ড প্লেসমেন্টের দিকেও নজর দিতে হবে। তবে কিওয়ার্ড বারবার জোর করে কনটেন্টের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
একই কিওয়ার্ড বারবার মিসলিডিংভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা ঠিক নয়। কোনো কিওয়ার্ড স্বাভাবিকভাবে যতবার আসে, ততবারই ব্যবহার করা ভালো।
শুধু সার্চ ইঞ্জিনের জন্য লেখা হলে গুগল এখন বিষয়টি অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারে। এর ফলে পোস্টের ফলাফল খারাপ হতে পারে এবং অনেক সময় ডি-র্যাংক হওয়া বা ইন্ডেক্সিংয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বরং মূল কিওয়ার্ডের পাশাপাশি তার বিভিন্ন ভেরিয়েশন ব্যবহার করা উচিত। এতে লেখাটা স্বাভাবিক থাকে এবং একই বিষয়ের বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত কিওয়ার্ডও কনটেন্টের মধ্যে চলে আসে।
৮। পোস্ট ইউজারের জন্য লেখা
পোস্ট শুধু গুগলে র্যাংক করার জন্য লেখা উচিত নয়। পোস্ট অবশ্যই ইউজারের উদ্দেশ্যে লেখা দরকার, যাতে যে কারণে একজন ইউজার ওয়েবসাইটে এসেছে, সে সেই তথ্যটা পায়।
একইসঙ্গে সার্চ ইঞ্জিনেও পোস্ট যাতে র্যাংক করতে পারে, সেদিকেও ফোকাস রাখতে হবে।
এই দুইটা বিষয় একসঙ্গে মাথায় রেখে কাজ করাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কিছু জোর করে করার দরকার নেই। স্বাভাবিকভাবে লেখার চেষ্টা করলেই ইউজার এবং সার্চ ইঞ্জিন দুই দিকই ধরে রাখা সম্ভব।
৯। গুগল সার্চ কনসোলকে গুরুত্ব দেওয়া
গুগল সার্চ কনসোল থেকে এমন অনেক কিওয়ার্ড খুঁজে বের করা যায় যেগুলোতে ইম্প্রেশন বেশি কিন্তু ক্লিক কম।
একটা ওয়েবসাইট শুরু করার পর দুই-তিনটা পোস্ট লেখার পরে যখন ইম্প্রেশন আসা শুরু করে, তখন সার্চ কনসোলে গিয়ে দেখা যেতে পারে কোন কোন কোয়ারিতে ইম্প্রেশন বেশি কিন্তু ক্লিক কম হচ্ছে।
এই কোয়ারিগুলো নিয়ে নতুন করে কিওয়ার্ড তৈরি করে সেই কিওয়ার্ড দিয়ে আলাদা নতুন পোস্ট করা যায়। এভাবে কাজ করলে ওই কিওয়ার্ডে র্যাংক আসতে পারে এবং ধীরে ধীরে পোস্টে ক্লিকও বাড়তে পারে।
থার্ড-পার্টি টুল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সার্চ কনসোলকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কারণ এখানে সরাসরি গুগলের নিজের ডেটা দেখা যায়।
১০। কন্টিনিউ পোস্ট করতে থাকা
নতুন ওয়েবসাইটে নিয়মিত পোস্ট করতে থাকলে ইন্ডেক্স হওয়া এবং র্যাংক করার সুযোগ তৈরি হয়।
সার্চ কনসোল থেকে নতুন নতুন কোয়ারি খুঁজে বের করে সেই কোয়ারি নিয়ে নতুন নতুন টাইটেলে পোস্ট করতে থাকলে সাইট ধীরে ধীরে র্যাংক পেতে শুরু করতে পারে। একইসঙ্গে নতুন পোস্টও ইন্ডেক্স হতে থাকে।
যত বেশি নতুন বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করা যাবে, তত বেশি কনটেন্ট তৈরি হবে এবং সাইটের জন্য নতুন নতুন র্যাংকিংয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
১১। পুরনো বিষয় নিয়ে না লিখে নতুন তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা
এমন একটি বিষয় নিয়ে লেখা কঠিন হতে পারে যেটা নিয়ে ইতোমধ্যেই অনেক লেখালেখি হয়ে গেছে। একই তথ্য নিয়ে অনেক ওয়েবসাইট কাজ করলে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য সেখানে জায়গা তৈরি করা কঠিন হয়ে যায়।
গুগল নতুন তথ্যকে গুরুত্ব দেয়। তাই সম্ভব হলে নতুন বা কম আলোচিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
এই বিষয়টি বিশেষ করে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন ওয়েবসাইটের কোনো অথরিটি এখনো তৈরি হয়নি। পুরনো এবং প্রতিষ্ঠিত তথ্য নিয়ে লিখলে সেখানে পুরনো বড় ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে যায়।
তাই নতুন এবং কম আলোচিত তথ্য নিয়ে কাজ করলে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য সহজে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
১২। ডোমেইন এবং হোস্টিং সঠিকভাবে বোঝা এবং ব্যবহার করা
একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে প্রথমেই ডোমেইন এবং হোস্টিং লাগে।
ডোমেইন হলো একটা নাম। একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করতে যেমন একটা নাম দরকার হয়, ঠিক তেমনি একটা ওয়েবসাইটেরও একটা নাম দরকার হয়। এই নামটাই মানুষ মনে রাখে এবং এই নাম ব্যবহার করেই মানুষ সরাসরি ওয়েবসাইটে চলে আসতে পারে।
অন্যদিকে হোস্টিং হলো একটা স্পেস, যেখানে ওয়েবসাইটের সবকিছু রাখা হয়।
ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার পর ওয়েবসাইটটা পুরোপুরি ফাঁকা থাকে। এরপর সেটাকে কনটেন্ট, ছবি, পেজ এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু দিয়ে সাজাতে হয়।
একটা বিষয় সবসময় মাথায় রাখা উচিত ডোমেইনের নাম পরবর্তীতে পরিবর্তন করা ঠিক নয়। কারণ একবার একটা নাম দিয়ে কাজ শুরু করলে সেই নামেই ধীরে ধীরে রেপুটেশন তৈরি হয়। নাম পরিবর্তন করলে আগের রেপুটেশন হারিয়ে যেতে পারে।
১৩। অন পেজ এসইও ভালোভাবে করা
ওয়েবসাইটের ভিতরে থেকে যেসব কাজ করা হয়, সেগুলোর সবকিছুই অন পেজ SEO-এর অংশ।
যেমন কন্টেন্ট লেখা, ছবি দেওয়া, পেজ তৈরি করা, ডিজাইন ঠিক করা, টাইটেল ঠিক করা ইত্যাদি। এমনকি ওয়েবসাইটের ছোটখাটো বিষয়গুলোও এর অংশ হতে পারে।
ওয়েবসাইটের ভিতরে হোম পেজ, এবাউট পেজ, কন্টাক্ট পেজের মতো প্রয়োজনীয় পেজ তৈরি করা এবং সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়েবসাইটকে সাজানোর এবং ইমপ্রুভ করার এই কাজগুলো ঠিকভাবে করলে একজন ভিজিটর ওয়েবসাইটে এসে সহজেই দরকারি তথ্য খুঁজে পেতে পারে। আর সেটি র্যাংকিংয়ের জন্যও সহায়ক হতে পারে।
১৪। অফ পেজ এসইও করে ওয়েবসাইটকে সবার কাছে পরিচিত করা
শুধু ওয়েবসাইট তৈরি করলেই হবে না, সেটাকে মানুষের কাছে জানাতেও হবে।
ওয়েবসাইটের বাইরে গিয়ে যে ধরনের কাজ করা হয়, সেটাকেই অফ পেজ বলা হয়। এটা মূলত প্রচার-প্রচারণার কাজ।
ব্যাকলিংক তৈরি করা এর একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিজিটরকে নিজের ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা যায়।
যখন কেউ অন্য কোনো জায়গা থেকে একটি লিংকের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইটে চলে আসে, তখন সেই লিংকটি ব্যাকলিংকের কাজ করে।
শুধু নিজের জায়গায় বসে থাকলে মানুষ ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানবে না। তাই বাইরে গিয়ে মানুষের কাছে ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানাতে হবে, যাতে তারা ওয়েবসাইটটি সম্পর্কে জানতে পারে এবং ভিজিট করতে পারে।
১৫। হোয়াইট হ্যাট পদ্ধতি মেনে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা নিয়ে কাজ করা
সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম এবং গাইডলাইন মেনে ওয়েবসাইট তৈরি করাকেই হোয়াইট হ্যাট পদ্ধতি বলা হয়।
এভাবে কাজ করলে হয়তো একটু বেশি সময় লাগতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে র্যাংকিং নাও আসতে পারে। কিন্তু ফলাফল দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে।
অন্যদিকে গুগলের নিয়ম ভেঙে ব্ল্যাক হ্যাট পদ্ধতিতে কাজ করলে হয়তো দ্রুত র্যাংকে আসা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেটা টিকে নাও থাকতে পারে।
যেকোনো সময় গুগল বিষয়টি ধরে ফেললে পুরো রেজাল্ট হারিয়ে যেতে পারে। তাই নিয়ম মেনে সৎভাবে কাজ করলে ফলাফল আসতে সময় লাগলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শেষ কথা
উপরের এই ১৫টি বিষয় মাথায় রেখে নিয়মিত কাজ করে গেলে একটা নতুন ব্লগও ধীরে ধীরে গুগল থেকে ভিজিটর পেতে শুরু করতে পারে।
মনে রাখতে হবে, গুগলের ফার্স্ট পেজ কারো জন্য গ্যারান্টেড কোনো জায়গা নয়। তাই সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে কাজ করে যাওয়াই একটা নতুন ব্লগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
একদিনে ফলাফল না এলেও নিয়মিতভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ, ভালো কন্টেন্ট, অন পেজ SEO এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে গেলে সময়ের সঙ্গে ওয়েবসাইটের অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

আনিক ট্রেন্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url