পোস্ট টাইটেল Gemini Notebook কী এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন

Gemini Notebook কী এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন

ধরুন আপনার কাছে একটা বড় রিসার্চ পেপার আছে। সাথে আছে এলোমেলো কিছু নোট। আবার আছে একটা ইউটিউব ভিডিও। এই সবকিছু যদি এক জায়গায় দিয়ে দেন এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এমন একটি AI পান যে সবকিছু পড়ে ফেলেছে, তাহলে কেমন হয়? আপনি যেকোনো প্রশ্ন করলেন আর সে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর দিল। উত্তরের সঙ্গে থাকল এমন সাইটেশন যেগুলোতে ক্লিক করে আপনি নিজেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, একই তথ্য থেকে তৈরি করা যায় পডকাস্ট, মাইন্ড ম্যাপ, ফ্ল্যাশকার্ড, কুইজ এবং স্টাডি গাইড।

Gemini Notebook কী এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন


এই টুলটির নাম Gemini Notebook। আগে এর নাম ছিল NotebookLM। Google নাম পরিবর্তন করে এটিকে Gemini Notebook হিসেবে উপস্থাপন করছে। ওয়েবসাইট এবং মূল ধারণা একই থাকলেও নামের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে।

এই আর্টিকেলে আমরা দেখব Gemini Notebook কী, কীভাবে এটি চালু করতে হয়, কীভাবে বিভিন্ন ধরনের Source যোগ করতে হয়, Source থেকে প্রশ্ন করতে হয় এবং Studio ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি Notebook কীভাবে সাজিয়ে রাখা যায় এবং অন্যদের সঙ্গে কীভাবে শেয়ার করা যায় সেটাও দেখব।

সূচিপত্র

Gemini Notebook কী

Gemini Notebook হলো Google-এর একটি AI টুল যেখানে আপনি নিজের Source যোগ করে সেই তথ্যের ভিত্তিতে AI-এর সঙ্গে কাজ করতে পারেন। এখানেই এটি সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় আলাদা। সাধারণ চ্যাটে প্রশ্ন করলে উত্তর মডেলের সাধারণ জ্ঞান বা অন্য তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারে। কিন্তু Gemini Notebook-এ আপনার দেওয়া Source-কে কেন্দ্র করে কাজ করা যায়।

আপনি কোনো টেক্সটবুক, রিসার্চ পেপার বা অন্য কোনো ডকুমেন্ট যোগ করলে সেই তথ্য নিয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে পারবেন। উত্তরের সঙ্গে Citation থাকলে সেটিতে ক্লিক করে তথ্যটি কোন Source থেকে এসেছে তা দেখা যায়। ফলে বড় কোনো ডকুমেন্ট থেকে নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করার কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

শুধু পড়াশোনার জন্য নয়, বড় কোনো রিপোর্ট, ইন্স্যুরেন্স পলিসি, গবেষণার তথ্য বা অন্য কোনো দীর্ঘ ডকুমেন্ট বুঝতেও এটি ব্যবহার করা যায়। যেখানে অনেক তথ্যের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট বিষয় খুঁজে বের করতে হয়, সেখানে Gemini Notebook বেশ কাজে আসতে পারে।

Gemini Notebook কি ফ্রি

Gemini Notebook-এর মূল অংশ ব্যবহার করার জন্য সাধারণ Google Account ব্যবহার করা যায়। তবে কোন Account বা Plan ব্যবহার করছেন তার ওপর কিছু Feature বা Setting-এর পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সব ব্যবহারকারীর কাছে একই ধরনের Option দেখা যাবে এমন নয়।

একটি Notebook-এর মধ্যে একাধিক Source রাখা যায়। ফলে আলাদা আলাদা ফাইল বা তথ্য এক জায়গায় এনে সেগুলো নিয়ে কাজ করা সম্ভব হয়।

Gemini Notebook কীভাবে চালু করবেন

Gemini Notebook ব্যবহার করতে NotebookLM-এর ওয়েবসাইটে যেতে হয়। আপনি যে Browser-এ Gmail বা অন্যান্য Google পরিষেবা ব্যবহার করেন, সেখান থেকে প্রবেশ করলে নিজের Google Account দিয়ে ব্যবহার করা যায়।

প্রথমবার প্রবেশ করলে একটি Welcome Popup দেখা যেতে পারে। সেখানে NotebookLM-এর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি দেখানো হতে পারে। সেটি বন্ধ করার পর মূল Home Screen দেখা যাবে। এখানে আপনার তৈরি করা Notebookগুলো থাকবে। প্রথমবার ব্যবহার করলে Google-এর তৈরি কিছু Example Notebook-ও দেখা যেতে পারে, যেগুলো দেখে Toolটির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়।

নতুন Notebook তৈরি করতে Create New-এ ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি নতুন ফাঁকা Notebook তৈরি হবে। আলাদা কাজের জন্য আলাদা Notebook তৈরি করা সুবিধাজনক। যেমন একটি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য, আরেকটি কাজের তথ্য বিশ্লেষণের জন্য এবং অন্যটি ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

Notebook-এর Interface মূলত কয়েকটি অংশে ভাগ করা থাকে। একদিকে থাকে Source, মাঝখানে থাকে Chat এবং অন্যদিকে থাকে Studio। এই তিনটি অংশের মাধ্যমে পুরো Notebook-এর কাজ করা যায়।

Gemini Notebook-এ Source কীভাবে যোগ করবেন

Gemini Notebook-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো Source। আপনি যে তথ্যের ভিত্তিতে AI-এর সঙ্গে কাজ করতে চান সেগুলো Source হিসেবে যোগ করতে হয়। Add Sources-এ ক্লিক করলে বিভিন্ন উপায়ে Source যোগ করার সুযোগ পাওয়া যায়।

কম্পিউটার থেকে File Upload করা যায়। Google Drive থেকে Docs বা Slides যোগ করা যায়। Website-এর Link যোগ করা যায়। সরাসরি Text Paste করা যায়। আবার YouTube Video এবং Audio File-ও ব্যবহার করা যায়।

PDF বা File আপলোড করা

Upload অপশনে ক্লিক করলে কম্পিউটারের File Browser খুলবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় File নির্বাচন করে Open চাপতে হবে। File যোগ হওয়ার পর Notebook সেটির তথ্য নিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হবে।

বড় কোনো Document হলে সেখান থেকে নির্দিষ্ট তথ্য খোঁজা বা Document নিয়ে প্রশ্ন করার সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে পুরো Document নিজে পড়ে নির্দিষ্ট অংশ খুঁজে বের করার সময় কমে যেতে পারে।

Website যোগ করা

Website যোগ করার জন্য Add Sources থেকে Website নির্বাচন করে Link Paste করতে হবে। এরপর Insert চাপলে Website Source হিসেবে যোগ হবে। একাধিক Link থাকলে সেগুলোও যোগ করা যায়।

তবে যেকোনো Website Source হিসেবে যোগ করার আগে সেটির তথ্য কোথা থেকে এসেছে এবং সেটি আপনার কাজের জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক তা দেখে নেওয়া ভালো।

YouTube Video যোগ করা

YouTube Video-এর Link যোগ করলে Notebook ভিডিওর Transcript ব্যবহার করে সেটিকে Source হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। ফলে পুরো ভিডিও না দেখেও সেই ভিডিওর তথ্য নিয়ে প্রশ্ন করা সম্ভব হয়।

তবে ভিডিওতে Caption বা Transcript না থাকলে সব ভিডিও একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই Video Source হিসেবে ব্যবহার করার আগে সেটি Notebook-এ ঠিকভাবে Load হয়েছে কি না দেখে নেওয়া ভালো।

Copy করা Text ও Google Drive ব্যবহার

কোনো তথ্য আলাদা File হিসেবে না থাকলেও সেটি Copy করে সরাসরি Text হিসেবে যোগ করা যায়। আবার Google Drive Connect করলে সেখানে থাকা Document বা Presentation থেকেও Source নেওয়া যায়।

এভাবে একটি Notebook-এর মধ্যে PDF, Website, YouTube Video এবং নিজের Notes একসঙ্গে রাখা সম্ভব হয়। এতে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য একই জায়গায় সাজিয়ে কাজ করা সহজ হয়।

Source না থাকলে Web Search ব্যবহার

কোনো বিষয়ের Source আপনার হাতে না থাকলেও Search the Web অপশন ব্যবহার করে প্রাসঙ্গিক Source খুঁজে নেওয়া যায়। কোনো Topic লিখলে Toolটি Web থেকে Source খুঁজে দিতে পারে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় Source Notebook-এ যোগ করা যায়।

এখানে Fast Research এবং Deep Research-এর মতো Option থাকতে পারে। Fast Research দ্রুত Source খুঁজে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায়। Deep Research তুলনামূলকভাবে গভীরভাবে তথ্য খোঁজার কাজে ব্যবহার করা যায়।

তবে Search করে পাওয়া সব Source একসঙ্গে Import না করাই ভালো। Source-এর নাম এবং প্রকাশকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দেখে প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য Source বেছে নেওয়া উচিত। প্রয়োজন নেই এমন Source বাদ দিলে Notebook-এর তথ্যও গুছিয়ে রাখা যায়।

ভালো Source বাছাই করা কেন গুরুত্বপূর্ণ

Notebook-এর পরবর্তী কাজগুলো আপনার Source-এর ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। তাই শুধু অনেকগুলো Link যোগ করলেই ভালো ফল পাওয়া যাবে এমন নয়। বরং প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য Source নির্বাচন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কার তথ্য কোথা থেকে এসেছে জানা নেই এমন অনেকগুলো Page যোগ করার চেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং প্রাসঙ্গিক কয়েকটি Source ব্যবহার করা বেশি কার্যকর হতে পারে। সম্ভব হলে Official Document, Research Paper বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের Source ব্যবহার করা ভালো।

কোনো Source কাজ না করলে কী করবেন

কখনো কোনো Website বা Source Notebook-এ ঠিকভাবে Load নাও হতে পারে। কোনো Website-এ Paywall থাকতে পারে, কোনো Website Content Access করতে দিতে পারে না, আবার কোনো Source-এর Format ঠিকভাবে Process নাও হতে পারে।

এমন হলে সেই Source বারবার যোগ করার চেষ্টা না করে সেটি Delete করে অন্য Source ব্যবহার করা যায়। Source-এর পাশে থাকা Options থেকে Delete করা যায় এবং প্রয়োজন হলে ভুল Source সরিয়ে ফেলা যায়।

Source Guide ও Auto Label কী

কোনো Source-এ ক্লিক করলে Notebook সেই Source-এর একটি Guide বা Summary দেখাতে পারে। এতে Document-এর মূল বিষয়গুলো দ্রুত বোঝা যায়। বিশেষ করে অনেক পৃষ্ঠার কোনো Report পড়ার আগে মূল বিষয়গুলো বুঝে নেওয়ার জন্য এটি কাজে আসতে পারে।

Notebook-এ Source-এর সংখ্যা বাড়তে থাকলে কোন Source-এ কী তথ্য আছে তা খুঁজে বের করা কঠিন হতে পারে। এই ক্ষেত্রে Auto Label ব্যবহার করে Source-গুলোকে বিষয় অনুযায়ী সাজানো যায়। একটি Source একাধিক বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে সেটি একাধিক Label-এর অধীনেও থাকতে পারে।

Label ব্যবহার করলে মূল Source পরিবর্তন হয় না। শুধু Source খুঁজে বের করা এবং গুছিয়ে রাখা সহজ হয়।

নির্দিষ্ট Source বেছে কাজ করা

প্রতিটি Source-এর পাশে থাকা Checkbox ব্যবহার করে ঠিক করা যায় কোন Source থেকে উত্তর নেওয়া হবে। Notebook বড় হয়ে গেলে এই Feature বিশেষভাবে কাজে আসে।

ধরুন আপনার Notebook-এ Photography নিয়ে অনেকগুলো Document এবং Video রয়েছে। আপনি যদি শুধু Lighting নিয়ে প্রশ্ন করতে চান, তাহলে Lighting সম্পর্কিত Sourceগুলো নির্বাচন করে বাকিগুলো বাদ দিতে পারেন। এতে আপনার প্রশ্নের জন্য নির্দিষ্ট Source-এর ওপর ফোকাস করা সহজ হয়।

Gemini Notebook-এ Chat করার নিয়ম

Notebook-এর মাঝের Chat Panel থেকেই মূলত Source-এর সঙ্গে কাজ করা হয়। Ask Box-এ প্রশ্ন লিখে Enter চাপলেই উত্তর পাওয়া যায়।

আপনি কোনো Research Paper যোগ করে তার মূল বিষয় জানতে চাইতে পারেন। কোনো Textbook যোগ করে নির্দিষ্ট Chapter সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন। আবার একাধিক Source-এর তথ্য তুলনা করেও প্রশ্ন করা যায়।

Gemini Notebook-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো উত্তর দেওয়ার সময় Source-এর Citation দেখানো। ফলে উত্তরটি কোন Source-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে তা যাচাই করা সহজ হয়।

Citation কীভাবে কাজ করে

উত্তরের মধ্যে ছোট ছোট Number বা Citation দেখা যেতে পারে। এগুলোতে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট Source-এর সেই অংশে যাওয়া যায় যেখান থেকে তথ্যটি নেওয়া হয়েছে। এতে উত্তরটি যাচাই করার সুযোগ থাকে।

কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে Source দেখে নেওয়া ভালো। কারণ AI-এর উত্তর ব্যবহার করার আগে মূল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া সবসময়ই নিরাপদ পদ্ধতি।

Studio দিয়ে কী কী তৈরি করা যায়

Gemini Notebook-এর Studio অংশটি এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ Feature। এখানে আপনার Source-এর তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের Output তৈরি করা যায়।

এর মধ্যে Audio Overview, Video Overview, Slide Deck, Mind Map, Reports, Flashcards, Quiz, Infographic এবং Data Table-এর মতো বিভিন্ন ধরনের Output রয়েছে।

Audio Overview

Audio Overview ব্যবহার করে Source-এর তথ্যকে Audio Discussion-এর মতো করে শোনা যায়। অনেক বড় Document পড়ার পরিবর্তে Audio আকারে বিষয়টি বোঝার জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

Video Overview

কিছু ক্ষেত্রে Source-এর তথ্য ব্যবহার করে Video Overview তৈরি করা যায়। এতে একই তথ্যকে Visual Presentation-এর মতো করে বোঝার সুযোগ পাওয়া যায়।

Slide Deck

কোনো বিষয় Presentation আকারে সাজানোর দরকার হলে Slide Deck কাজে লাগতে পারে। Source-এর তথ্য থেকে Presentation-এর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সাজিয়ে নেওয়া যায়।

Mind Map

কোনো বড় বিষয়ের মধ্যে বিভিন্ন তথ্যের সম্পর্ক বোঝার জন্য Mind Map তৈরি করা যায়। একটি Topic-এর মূল বিষয় এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো একসঙ্গে দেখার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।

Report ও অন্যান্য Study Tools

Source-এর তথ্য থেকে Report তৈরি করা যায়। আবার পড়াশোনার জন্য Flashcard এবং Quiz তৈরি করা যায়। Infographic বা Data Table ব্যবহার করে তথ্যকে আরও সহজভাবে সাজানো যায়।

এগুলো বিশেষ করে শিক্ষার্থী বা এমন ব্যবহারকারীদের জন্য কাজে লাগতে পারে যাদের অনেক তথ্যকে বিভিন্ন Format-এ ব্যবহার করতে হয়।

Notes কীভাবে Save করবেন

Notebook-এ কাজ করার সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো উত্তর বা তথ্য আলাদা করে রাখতে চাইলে Note হিসেবে Save করা যায়। এতে পরে আবার পুরো Chat খুঁজে বের না করেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

একটি বড় Research বা Study Project হলে আলাদা আলাদা গুরুত্বপূর্ণ Note রেখে দিলে পুরো কাজটি গুছিয়ে রাখা সহজ হয়।

Notebook কীভাবে গুছিয়ে রাখবেন

একটি Notebook-এ Source, Chat এবং Note-এর সংখ্যা বাড়তে থাকলে শুরু থেকেই এগুলো গুছিয়ে রাখা ভালো। Source-এ Label ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনীয় Source আলাদা করে নির্বাচন করা যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ উত্তর Note হিসেবে Save করা যায়।

একই ধরনের কাজের জন্য আলাদা Notebook ব্যবহার করলে পরবর্তীতে তথ্য খুঁজে পাওয়াও সহজ হয়। যেমন পড়াশোনা, ব্যবসা, Research বা ভ্রমণের জন্য আলাদা Notebook রাখা যেতে পারে।

নিজের Data নিয়ে কাজ করা

Gemini Notebook শুধু Document পড়ার জন্য নয়। নিজের Data এবং বিভিন্ন তথ্যের ওপরও কাজ করা যায়। বড় কোনো Report বা তথ্যের মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট বিষয় বের করা, তুলনা করা বা Summary তৈরি করার মতো কাজে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

যখন অনেকগুলো Document বা Source একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়, তখন সব তথ্য এক জায়গায় রেখে প্রশ্ন করার সুবিধা পাওয়া যায়।

Deep Research দিয়ে গবেষণা

কোনো বিষয়ে আরও বিস্তারিত Research করতে চাইলে Deep Research ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বিভিন্ন Source খুঁজে এনে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষণার জন্য তথ্য সাজাতে সাহায্য করে।

Research করার সময় পাওয়া প্রতিটি Source একবার দেখে নেওয়া ভালো। কোন তথ্য কোথা থেকে এসেছে এবং সেটি আপনার কাজের জন্য প্রাসঙ্গিক কি না তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় Source Notebook-এ যোগ করা যায়।

এরপর সেই Source ব্যবহার করে আরও নির্দিষ্ট প্রশ্ন করা যায়। এভাবে নিজের তথ্য এবং বাইরের Research-এর তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করে একটি Research Notebook তৈরি করা সম্ভব।

অন্যদের সঙ্গে Notebook Share করা

Gemini Notebook একা ব্যবহার করার পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গেও Share করা যায়। Share Button ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে Email-এর মাধ্যমে Invite করা যায়। তাদের শুধু দেখার সুযোগ থাকবে নাকি Edit করার সুযোগ থাকবে সেটিও নির্ধারণ করা যায়।

কিছু ক্ষেত্রে Shareable বা Public Link ব্যবহার করা যায়। তবে Notebook Share করার আগে এর মধ্যে থাকা ব্যক্তিগত বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে কি না তা অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।

Team Project, Study Group বা Research-এর কাজে একই Notebook একাধিক মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করা সুবিধাজনক হতে পারে। এতে সবাই একই Source এবং তথ্যের ওপর কাজ করতে পারে।

Gemini-এর ভেতরে Notebook ব্যবহার করা

Gemini-এর সঙ্গে Notebook ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট Project-এর তথ্য এক জায়গায় রাখা যায়। Notebook-এর মধ্যে Source, Chat এবং নির্দিষ্ট নির্দেশনা রাখা সম্ভব হওয়ায় একই কাজের জন্য বারবার শুরু থেকে সব তথ্য দিতে হয় না।

নতুন Notebook তৈরি করার সময় একটি নাম দেওয়া যায়। এরপর নির্দিষ্ট Source যোগ করা যায় এবং Notebook-এর উদ্দেশ্য অনুযায়ী Custom Instruction সেট করা যায়।

Custom Instruction ব্যবহার

Notebook Settings থেকে Custom Instruction দেওয়া যায়। এখানে Notebook-এর উদ্দেশ্য, কী ধরনের উত্তর দরকার, কোন Format-এ উত্তর চাই এবং কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে সেগুলো নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়।

যেমন কোনো ব্যবসার জন্য Customer Research করলে Notebook-কে জানানো যেতে পারে যে এর উদ্দেশ্য হলো Customer Profile তৈরি করা। এরপর সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তী Chatগুলো করা যায়।

এতে প্রতিবার একই ধরনের নির্দেশনা নতুন করে লিখতে হয় না।

আগের Chat Notebook-এ যোগ করা

আগে করা কোনো Chat যদি নতুন Notebook-এর কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেটিও Notebook-এর সঙ্গে যুক্ত করা যায়। Chat-এর Options থেকে Add to Notebook নির্বাচন করে নির্দিষ্ট Notebook বেছে নেওয়া যায়।

এভাবে পুরোনো কথোপকথন, নতুন Source এবং Custom Instruction একই Project-এর মধ্যে রাখা সম্ভব হয়।

Notebook-এ Source যোগ করা

Notebook-এর Add Sources অপশন থেকে নতুন Source যোগ করা যায়। Document, Website বা অন্যান্য সমর্থিত Source ব্যবহার করা যায়। একটি নির্দিষ্ট Project-এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো একই Notebook-এ রাখলে পরে সেগুলো নিয়ে Chat করা সহজ হয়।

একইভাবে YouTube Video বা অন্যান্য Source যোগ করে সেগুলোর তথ্যও Project-এর অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

বারবার একই কথা বলতে হয় না

Notebook-এর বড় সুবিধা হলো একই Project-এর Source, Instruction এবং আগের Chat এক জায়গায় রাখা যায়। ফলে প্রতিবার নতুন Chat শুরু করার সময় একই তথ্য আবার লিখতে হয় না।

ধরুন আপনি কোনো ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন। গন্তব্য, তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আগে থেকেই Notebook-এ রাখা আছে। পরে শুধু নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশ দিলে সেই আগের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন Output তৈরি করা যায়।

এভাবে Notebook-কে একটি নির্দিষ্ট Project-এর Workspace হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একই Project-এর Source এবং কথোপকথন এক জায়গায় থাকায় কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

Gemini Notebook কেন সাধারণ Chatbot থেকে আলাদা

Gemini Notebook সাধারণ Gemini, ChatGPT বা Claude-এর সাধারণ Chat-এর মতো নয়। এখানে আপনি নিজের Source যোগ করতে পারেন এবং সেই Source-এর ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে পারেন।

আপনি নিজের File Upload করতে পারেন, Website যোগ করতে পারেন, YouTube Video ব্যবহার করতে পারেন এবং বিভিন্ন Source একসঙ্গে রেখে প্রশ্ন করতে পারেন। এরপর Citation-এর মাধ্যমে তথ্যের উৎসও যাচাই করা যায়।

এর সঙ্গে Audio Overview, Study Material, Data Table, Infographic, Slide Deck এবং অন্যান্য Output তৈরি করার সুবিধা থাকায় বড় কোনো তথ্যকে বিভিন্ন Format-এ ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি একটি নির্দিষ্ট Project-এর তথ্য এক জায়গায় গুছিয়ে রেখে সেই তথ্য নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়।

কারা Gemini Notebook ব্যবহার করতে পারেন

Gemini Notebook বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারীর কাজে আসতে পারে। ছাত্রছাত্রীরা Textbook বা Lecture Note যোগ করে Flashcard, Quiz এবং Study Material তৈরি করতে পারেন। যারা বড় Insurance Policy বা অন্য কোনো দীর্ঘ Document বুঝতে চান তারাও Source থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে নিতে পারেন।

যারা বড় Report বা Research Document নিয়ে কাজ করেন তারা Summary, Report, Infographic বা Data Table তৈরি করতে পারেন। ভ্রমণ পরিকল্পনার সময় বিভিন্ন Website, Document এবং অন্যান্য তথ্য এক জায়গায় রেখে সেগুলো নিয়ে কাজ করা যায়।

আবার Team-এর সঙ্গে কাজ করার সময় একটি Notebook Share করে সবাই একই Source এবং তথ্যের ওপর কাজ করতে পারে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে অনেক ধরনের তথ্য এক জায়গায় এনে কাজ করার প্রয়োজন হলে Gemini Notebook ব্যবহার করা যেতে পারে।

শেষ কথা

Gemini Notebook ব্যবহার করার মূল ধারণাটি খুব সহজ। প্রথমে একটি Notebook তৈরি করতে হবে। এরপর PDF, Website, YouTube Video, Text বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় Source যোগ করতে হবে। তারপর সেই Source থেকে প্রশ্ন করা যাবে এবং Citation-এর মাধ্যমে উত্তরের তথ্য যাচাই করা যাবে।

এরপর Studio ব্যবহার করে Audio Overview, Video Overview, Slide Deck, Mind Map, Report, Flashcard, Quiz, Infographic বা Data Table-এর মতো বিভিন্ন Output তৈরি করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Note হিসেবে Save করা যায় এবং প্রয়োজন হলে পুরো Notebook অন্যদের সঙ্গে Share করা যায়।

Gemini Notebook-এর মূল সুবিধা হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের Source এবং সেই Source নিয়ে করা কাজগুলোকে এক জায়গায় রাখা। ফলে বড় কোনো Document বা অনেকগুলো তথ্য নিয়ে কাজ করার সময় সবকিছু আলাদা আলাদা জায়গায় খুঁজতে হয় না।

আপনি যদি কোনো Research Paper, Textbook-এর Chapter, নিজের Notes বা অন্য কোনো বড় Document নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে সেটি একটি নতুন Notebook-এ যোগ করে শুরু করতে পারেন। প্রথমে Source যোগ করে একটি সাধারণ প্রশ্ন করুন। এরপর Citation দেখে তথ্য যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে Studio থেকে অন্য কোনো Output তৈরি করে দেখুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আনিক ট্রেন্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url